নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচন ২০২৬ ভোটের পর বদলে যাচ্ছে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ। কেন্দ্রে বিজেপি সরকার আসার পর থেকে হকার উচ্ছেদ, ১৪ বছরের কম বয়সী গরু জবাই নিষিদ্ধ, NRC, বুলডোজার রাজনীতি, SIR এবং অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের মতো জনবিরোধী ইস্যুতে রাস্তায় কারা ছিল? সাধারণ মানুষ বলছেন, এই সব আন্দোলনে মানুষের পাশে একমাত্র CPI(M) ও বামফ্রন্টকেই দেখা গেছে।
নন্দীগ্রাম: কংগ্রেসের শক্তি কতটা?নন্দীগ্রামের ইতিহাস বলছে, এখানে কংগ্রেস কখনোই শক্তিশালী ছিল না। পূর্ব মেদিনীপুর বা পশ্চিম মেদিনীপুরে গত বিধানসভা নির্বাচনেও কংগ্রেসের ভোট ছিল না । এবার উপনির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থী কার্যত নেই বললেই চলে। প্রার্থী ভয়ে প্রচার থেকে সরে গেছেন কিনা, তা নিয়ে মানুষের মধ্যেই গুঞ্জন চলছে। এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেস নন্দীগ্রামে অক্সিজেন পাওয়ার চেষ্টা করছে এবং তৃণমূল কংগ্রেসকে সাপোর্ট করবে। কিন্তু নন্দীগ্রামের মানুষ জানে, বিজেপির বিরুদ্ধে ধারাবাহিক লড়াইয়ে বামেরাই ছিল।
রেজিনগর: লড়াই ত্রিমুখী
রেজিনগরের ছবিটা আরও জটিল। সেখানে হুমায়ূনের প্রার্থী প্রচারে নেই। অভিযোগ উঠছে, হুমায়ুন কবীরের দলের কর্মীদের অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করা হচ্ছে। তাঁর ছেলে গোলাম নবী আজাদও প্রচারে থাকবেন না।অন্যদিকে তৃণমূল প্রার্থী নিজেই এক সভায় বলেছেন, "আমার হয়ে কে প্রচার করবে, কে আমাকে ভোট দেবে?" এই মন্তব্যের পর তৃণমূল কর্মীরা কতটা তাঁর পাশে থাকবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর মানুষের ভরসা কতটা, তা বিধানসভার ফলেই বোঝা যাবে। ফলে রেজিনগরের লড়াইটা এখন কংগ্রেস বনাম CPI(M) বনাম বিজেপির মধ্যে। যেকোনো দল জিততে পারে। রেজিনগরে প্রায় ৭০-৭৫% মুসলিম ভোট হলেও, হিন্দু ভোট এবার ভাগ হতে পারে। বিজেপি যদি ভাবে সব হিন্দু ভোট তাদের পকেটে, তাহলে তারা বড় ভুল করবে। বহু হিন্দু ভোটার এবার বিজেপির দিক থেকে মুখ ফেরাতে পারে।
নন্দীগ্রামে বামেরা হারানো জমি ফিরে পাওয়ার সুযোগ খুঁজছে, আর রেজিনগরে লড়াইটা প্রেস্টিজ ফাইট। দুই কেন্দ্রেই একটা বিষয় স্পষ্ট - বিজেপি বিরোধী লড়াইয়ে মাঠে থাকার বার্তা বামেরা দিতে পেরেছে, যা ভোটের বাক্সে চমক দিতে পারে।
আপনার কী মনে হয়? নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে এবার কে জিতবে? কমেন্টে জানান।












