বারুইপুর আদালতে যা ঘটল, তা শুধু একজন আইনজীবীর উপর হামলা নয়, গোটা বিচার ব্যবস্থার উপর হামলা।
আমি সকাল থেকেই খবরটা ফলো করছি। ভাঙড় কলেজের অশান্তির জের গিয়ে পড়ল বারুইপুর কোর্টে। আর সেখানেই হেনস্থার শিকার হলেন বাম নেতা ও আইনজীবী সায়ন ব্যানার্জি।
ঘটনাটা ঠিক কী ঘটেছিল?
গত সোমবার ভাঙড় কলেজে নতুন পরিচালন সমিতির সভাপতি সায়ন্তন বসুকে ঢুকতে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে SFI ও ISF সমর্থিত ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে ABVP-র তুমুল সংঘর্ষ হয়। পুলিশ ৪ জনকে গ্রেফতার করে, যার মধ্যে SFI কনভেনর শাহরুখ আখতার আলি মোল্লা ও আসলাম হাবিব ছিল।
মঙ্গলবার তাদের বারুইপুর আদালতে তোলা হয়। তাদের হয়ে সওয়াল করতে যান আইনজীবী সায়ন ব্যানার্জি। আদালত দুজনকে জামিন দেয়। আর তারপরই ঘটে আসল ঘটনা।
সায়ন বাবুর বক্তব্য অনুযায়ী, "রায় পছন্দ না হওয়ায়" আদালত চত্বরেই কালো কোর্ট পরা অবস্থায় তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া হয়, ইট ছোড়া হয়, গালিগালাজ করা হয়। প্রায় দু'ঘণ্টা তাঁকে আদালত কক্ষে আটকে থাকতে হয়। অভিযোগের তির ABVP-বিজেপি সমর্থকদের দিকে, যদিও ABVP তা অস্বীকার করেছে।
এরপর কী হলো?
এই ঘটনা হালকাভাবে নেয়নি কলকাতা হাইকোর্ট। প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি গুগে ও বিচারপতি ওম নারায়ণ রাইয়ের ডিভিশন বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করার নির্দেশ দিয়েছে। প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট বলেছেন, "আজ একজন আইনজীবী আক্রান্ত, কাল এ, বি, সি আক্রান্ত হবে। এটা মেনে নেওয়া যায় না।"
বারুইপুরের জেলা জজ ও পুলিশ সুপারের কাছে রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। বুধবার সকালে বারুইপুর আদালতের আইনজীবীরা প্রধান গেট বন্ধ করে বিক্ষোভ দেখান।
প্রতিবাদের ঝড়
এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন বর্ষীয়ান আইনজীবী ও সিপিআইএম নেতা বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য। তিনি লিখেছেন, "অন্যায়ভাবে গ্রেফতার হওয়া ছাত্রদের জামিন করিয়েছেন বলেই শুভেন্দু বাবুর চ্যালারা আক্রমণ করেছে। দাঙ্গাবাজদের অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে।"
প্রতিবাদ জানিয়েছেন আরেক আইনজীবী ফিরদৌস শামিমও।
অন্যদিকে প্রাক্তন IPS অফিসার হুমায়ুন কবীর নিজেও কিছুদিন আগে পূর্ব যাদবপুর থানার সামনে হামলার শিকার হয়েছিলেন। তিনি লাইভে এসে বলেছিলেন, "৫০ জন পুলিশের সামনে আমাকে মারা হয়েছে।" আজ আইনজীবীদের উপর হামলা দেখে প্রশ্ন উঠছে - প্রাক্তন IPS-ই যদি নিরাপদ না থাকেন, আইনজীবীরাই যদি আদালতে নিরাপদ না থাকেন, তাহলে সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়?
এখানেই প্রশ্ন, গণতন্ত্র কি সত্যিই বিপন্ন?
তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ বরাবরই বলেন আইনের শাসনের কথা। এবার দেখার, শাসক দল এই ঘটনায় কী অবস্থান নেয়। কারণ অভিযোগটা গুরুতর - আদালত চত্বরে মাস্তানি।
আপনারা কী মনে করেন? আদালত চত্বরে একজন আইনজীবীর গায়ে ডিম ছোড়া কি গণতন্ত্রের জন্য লজ্জার নয়? কমেন্টে জানান।
আজকের রাজনীতি এখানেই শেষ করছি। ভালো থাকবেন।
- Sukhen Ghosh







0 comments:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন