ভোটার তালিকা থেকে ৬৩% নারীর নাম বাদ! ভোটাধিকার হরণ ও প্রশাসনিক চক্রান্তের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠল মহিলা সমিতি
সুখেন ঘোষ | আজকের রাজনীতি
বাংলা জুড়ে ভোটার তালিকা থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষের নাম বাদ যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সর্বভারতীয় গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতি (AIDWA)-এর পক্ষ থেকে একে কেবল সাধারণ প্রশাসনিক ত্রুটি মানতে নারাজ, বরং এটিকে একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক ও চক্রান্তমূলক পদক্ষেপ বলে অভিহিত করা হয়েছে। সম্প্রতি সংগঠনের নেত্রীদের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য।
২৭ লক্ষ মানুষের নাম বাদ, যার ৬৩ শতাংশই নারী!
তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে প্রায় ২৭ লক্ষ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ চলে গেছে। কিন্তু এত বড় একটা সংখ্যা বাদ যাওয়ার পরেও নির্বাচন কমিশন বা রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এর কোনো সদুত্তর মিলছে না। সবচেয়ে অবাক করা এবং উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই বাদ যাওয়া ভোটারদের মধ্যে প্রায় ৬৩ শতাংশই মহিলা। মালদা, মুর্শিদাবাদ, দক্ষিণ ২৪ পরগনার মতো জেলাগুলোতে এই প্রবণতা সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
কোন যুক্তিতে বাদ পড়ছে নাম?
মহিলা সমিতির প্রশ্ন, নাম বাদ দেওয়ার পেছনে যে 'লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি' বা অসঙ্গতির কথা বলা হচ্ছে, তার ভিত্তি কী? অতীতে ২০০২ সাল কিংবা তারও আগে ১৯৭২ সাল থেকে যাদের নাম ভোটার তালিকায় ছিল, হঠাৎ করে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দিতে গিয়ে তারা দেখছেন তালিকায় তাদের নাম নেই।
বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে— বিয়ের পর পদবি পরিবর্তন, সম্পত্তির দলিল কিংবা পাট্টায় স্বামীর নাম বা যৌথ নাম থাকার বিষয়টিকে সামনে রেখে তাদের নাগরিক অধিকার ও ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। অথচ বহু ক্ষেত্রে নারীদের এই নথিপত্র এবং পরিচয়পত্র থাকা সত্ত্বেও চক্রান্ত করে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
রেশন ও সরকারি সুবিধা হারানোর আতঙ্ক
ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার ফলে বাংলার সাধারণ মহিলারা আজ এক গভীর মানসিক আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তাদের মনে প্রশ্ন জেগেছে— ভোটার লিস্টে নাম না থাকলে কি তাদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হবে? ভিনরাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকদের আত্মহত্যার ঘটনার মতো নারীদের ওপরও নানাভাবে রাজনৈতিক ও সামাজিক চাপ তৈরি করা হচ্ছে। অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার বা রেশন কার্ডের মতো জরুরি পরিষেবা থেকেও মহিলারা বঞ্চিত হতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
আগামী ২৫শে সেপ্টেম্বর সিইও দপ্তর অভিযান
নির্বাচন কমিশনের নিষ্ক্রিয়তা এবং শাসকদলের এই কথিত চক্রান্তের বিরুদ্ধে আর চুপ করে থাকতে নারাজ মহিলা সমিতি। সংগঠনের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে যে, আগামী ২৫শে সেপ্টেম্বর ভুক্তভোগী নারীদের সঙ্গে নিয়ে সিইও (CEO) দপ্তর ঘেরাও করা হবে। ভোচিকার ফিরিয়ে দেওয়া এবং ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার চক্রান্তের বিরুদ্ধে এই আন্দোলন গোটা রাজ্য জুড়ে ছড়িয়ে দেওয়ার হুঙ্কার দিয়েছেন নেত্রীরা।
সংবাদ মাধ্যম ও ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেও যখন সুরাহা মিলছে না, তখন বাংলার নারীরা নিজেদের অধিকার রক্ষায় রাস্তায় নামতে বাধ্য হচ্ছেন— এমনটাই স্পষ্ট বার্তা উঠে এসেছে আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনে।









0 comments:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন