তৃণমূলের বিদায়, বিজেপি ক্ষমতায় - এবার বিজেপিকে রুখতে বাম-কংগ্রেস-ISF জোটের ডাক নওশাদের!
রাজনীতির পট পরিবর্তন। নওশাদ সিদ্দিকী এতদিন বলতেন তৃণমূল-বিজেপির বাইনারি ভাঙতে হবে। এবার প্রেক্ষাপটটাই বদলে গেছে।তৃণমূল সরকার থেকে চলে গেছে, ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। আর ঠিক এই মুহূর্তেই ভাঙড়ের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকীর সেই পুরনো দাবি আরও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠলো - বিজেপিকে রুখতে বাম-কংগ্রেস-ISF-কে এক হতেই হবে।
কেন এই জোটের কথা এখন আরও জোরালো?
নওশাদের যুক্তি ছিল, বিজেপির মূল প্ল্যান হল সংখ্যালঘু ভোট ভাগ করে দাও। তৃণমূল থাকাকালীন এই ভোট তৃণমূল, কংগ্রেস, ISF, বামেদের মধ্যে ভাগ হতো।
এখন তৃণমূল সরকারে নেই। ফলে সেই সংখ্যালঘু ভোট পুরোপুরি অভিভাবকহীন। বিজেপি সরকারে এসে যদি সেই ভোট আরও ছিন্নভিন্ন থাকে, তাহলে বিজেপিকে হারানো অসম্ভব। তাই তিনি বলছেন, তৃণমূল পরবর্তী সময়ে বিজেপির বিরুদ্ধে একমাত্র ধর্মনিরপেক্ষ বিকল্প হতে পারে বাম-কংগ্রেস-ISF জোট।
এই নতুন সমীকরণে জোটের অঙ্ক কী?
১. বিরোধী পরিসরে শূন্যতা পূরণ: তৃণমূল হেরে যাওয়ায় প্রধান বিরোধী হওয়ার লড়াই এখন খোলা। বাম-কংগ্রেসের ক্যাডার, সংগঠন আর ISF-এর সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনভিত্তি মিলে গেলে বিজেপির বিরুদ্ধে একটা বিশ্বাসযোগ্য মুখ তৈরি হতে পারে।
২. ধর্মনিরপেক্ষ ভোটের একত্রীকরণ: ২০২১ সালে সংযুক্ত মোর্চা একসঙ্গে লড়ে ভাঙড়ে জিতেছিল। ২০২৪-এ জোট ভাঙায় ফায়দা পেয়েছিল তৃণমূল ও বিজেপি। এখন বিজেপি ক্ষমতায় থাকায় সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি হলে ধর্মনিরপেক্ষ ভোট চিরতরে ভাগ হয়ে যাবে - এটাই নওশাদের আশঙ্কা।
৩. বিজেপির বিরুদ্ধে আদর্শগত লড়াই: এতদিন লড়াই ছিল দুর্নীতি বনাম সাম্প্রদায়িকতা। এখন লড়াই সরাসরি ক্ষমতাসীন বিজেপির নীতির বিরুদ্ধে। সেখানে তৃণমূলের সঙ্গে জোট না করে বাম-কংগ্রেস-ISF যদি পরিচ্ছন্ন ধর্মনিরপেক্ষ প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে, মানুষ বিকল্প হিসেবে দেখতে পারে।
সত্যিই কি পারবে?
এখানেই বড় প্রশ্ন।
ক্ষমতায় থাকা বিজেপির বিরুদ্ধে লড়তে গেলে শুধু জোট করলেই হবে না, দরকার রাস্তার আন্দোলন। বামেদের সংগঠন আছে , কংগ্রেসের নেতৃত্বে দ্বিধা, আর ISF মাত্র কয়েকটি বিধানসভায় শক্তিশালী ভোট আছে । এই তিন শক্তি এক হলেও রাজ্যজুড়ে বিজেপির মতো সাংগঠনিক মেশিনের বিরুদ্ধে লড়তে হলে আসন সমঝোতা, অভিন্ন কর্মসূচি এবং নেতৃত্বের ইগো ছাড়তে হবে - যা নিয়ে নওশাদ নিজেও বারবার সরব হয়েছেন।
তবে একটা কথা পরিষ্কার - তৃণমূলের পতনের পর বাংলায় যদি বিজেপি-বিরোধী ভোট এক জায়গায় না আসে, তাহলে বিজেপিকে রোখা আরও কঠিন হবে। সেই জায়গা থেকেই নওশাদ সিদ্দিকীর এই ডাক - তৃণমূল নেই, এবার বিজেপির বিরুদ্ধে সব ধর্মনিরপেক্ষ শক্তি এক হও।
জোট কি সত্যিই সম্ভব? নাকি আবারও ভোট ভাগের খেলায় বিজেপির সুবিধা হবে?
আপনার মতামত কী?
আজকের রাজনীতি | সুখেন ঘোষ
#NausadSiddiqui #BamCongressISF #BJP #BengalPolitics #TMC #AjkerRajniti #SukhenGhosh #WestBengal



❤️
উত্তরমুছুন