ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই কি গৃহযুদ্ধ চলছে? সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত একটি রিপোর্টকে কেন্দ্র করে এমনই প্রশ্নে তোলপাড় জাতীয় রাজনীতি।
অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন খোদ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। বুধবার 'দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস' এর একটি রিপোর্টে দাবি করা হয়, গত ১০ মাসে কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বাকি দুই কমিশনার সুখবীর সিং সাঁধু এবং বিবেক জোশী অন্তত ১৪ বার লিখিত আপত্তি জানিয়েছেন।
বিতর্কের মূল বিষয় কী?
রিপোর্ট অনুযায়ী আপত্তিগুলো মূলত তিনটি বিষয়ে -
১. স্পেশাল ইন্টেন্সিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়া
২. ফর্ম ৬-এ নতুন নিয়ম
৩. ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া ও নতুন নাম যোগ করার পদ্ধতি। অভিযোগ, এই সিদ্ধান্তগুলো দুই কমিশনারকে অন্ধকারে রেখে নেওয়া হয়েছিল।
বিরোধীদের তীব্র আক্রমণ
এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই একযোগে আক্রমণে নামে বিরোধী শিবির। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী একে 'গণতন্ত্রের ওপর আক্রমণ' বলে বর্ণনা করেন। তৃণমূলের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় CEC-র বরখাস্ত এবং আদালতের তত্ত্বাবধানে তদন্তের দাবি তোলেন।
অবশেষে মুখ খুলল কমিশন
চাপের মুখে পড়ে বৃহস্পতিবার যৌথ বিবৃতি জারি করে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের বক্তব্য -
"ভারতের নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় কাজ করে। যে কোনও স্বাধীন সংস্থায় ভিন্নমত থাকা অস্বাভাবিক নয়। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে দীর্ঘ আলোচনা ও বিতর্ক কমিশনের কাজেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ।"
এছাড়াও কমিশন জানিয়েছে, গত ১০ মাসে প্রায় ৪০টি নতুন সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে ভোটার তালিকাকে আরও স্বচ্ছ করতে। কয়েকটি বিচ্ছিন্ন অভ্যন্তরীণ নোটকে দেখিয়ে পুরো প্রক্রিয়াকে একপেশে ভাবে তুলে ধরা হচ্ছে।
বিশ্লেষণ: Ajker রাজনীতি
সুখেন ঘোষ
সামনে একাধিক রাজ্যে বিধানসভা ভোট। তার আগে কমিশনের অন্দরের এই ফাটলের খবর নিঃসন্দেহে কমিশনের ভাবমূর্তিতে আঘাত করেছে। কমিশনের এই সাফাই বিরোধীদের আক্রমণ কতটা থামাতে পারে, সেটাই এখন দেখার।
- রিপোর্ট: সুখেন ঘোষ, আজকের রাজনীতি











