প্রচারের মাঝেই সিপিআই প্রার্থীকে ঘিরে সংঘর্ষের অভিযোগ, বিজেপি নেতার বিরুদ্ধেও অভিযোগ; পাল্টা নালিশ বিজেপি নেতার
নিজস্ব প্রতিবেদন | আজকের রাজনীতি ডট ইন
পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামে উপনির্বাচনের আগে ফের উত্তেজনার অভিযোগ। সোমবার প্রচারে বেরিয়ে সিপিআই প্রার্থী শান্তিগোপাল গিরিকে মারধর করা হয়েছে এবং তাঁর জামা-প্যান্ট ছিঁড়ে দেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগ উঠেছে বিজেপির এক নেতার বিরুদ্ধে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যাচ্ছে, নন্দীগ্রামের দাউদপুরের একটি এলাকায় প্রচারে গিয়েছিলেন শান্তিগোপাল গিরি। অভিযোগ, সেই সময় বিজেপি নেতা আব্বাস বেগ তাঁর উপর চড়াও হন। মারধরের ঘটনায় শান্তিগোপাল গিরি নন্দীগ্রাম থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁর পায়ে চোটও লেগেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে ঘটনাকে ঘিরে পাল্টা অভিযোগও করেছেন বিজেপি নেতা আব্বাস বেগ। তাঁর দাবি, স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলার সময় শান্তিগোপাল গিরি ধর্মের নামে মানুষকে বিভ্রান্ত করছিলেন। তিনি প্রতিবাদ করলে তাঁকে এবং তাঁর সঙ্গে থাকা লোকজন মারধর করেন বলে অভিযোগ করেছেন আব্বাস। তাঁর মাথায় চোট লাগার দাবিও প্রকাশিত প্রতিবেদনে রয়েছে।
অর্থাৎ, ঘটনাটি নিয়ে দুই পক্ষের কাছ থেকেই অভিযোগ উঠেছে। নন্দীগ্রাম থানায় দুই পক্ষের অভিযোগের পর পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গিয়েছে।
নন্দীগ্রামে জমে উঠেছে উপনির্বাচনের লড়াই
আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন। এই আসনে বামফ্রন্টের হয়ে সিপিআই প্রার্থী শান্তিগোপাল গিরি এবং বিজেপির হয়ে হাসিরানি রথ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
অন্যদিকে রেজিনগরেও বামফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে সিপিআইএম-এর সৈয়দ আসাদ আলি লড়াই করছেন। ফলে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর—দুই কেন্দ্রেই উপনির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক তৎপরতা তুঙ্গে।
নন্দীগ্রামে শান্তিগোপাল গিরিকে ঘিরে এই ঘটনার অভিযোগ সামনে আসার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—ভোটের আগে প্রচারের পরিবেশ কতটা শান্তিপূর্ণ থাকবে?
রাজনৈতিক প্রশ্নও বাড়ছে
নন্দীগ্রামে বামেদের প্রচার নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক আলোচনা বেড়েছে। শান্তিগোপাল গিরিও প্রচারে মানুষের সঙ্গে জনসংযোগ করছেন এবং বামেদের সমর্থনে মানুষের সাড়া পাওয়ার দাবি করেছেন। অন্যদিকে বিজেপিও নিজেদের প্রচার ও সংগঠনকে জোরদার করছে।
তবে এই ঘটনার ভিত্তিতে বিজেপি ভয় পেয়েছে বা নির্বাচনে বিজেপির হাওয়া খারাপ হয়ে গিয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে এখনই পৌঁছনোর মতো তথ্য নেই। সেটি ভোটের ফল এবং ভোটারদের বাস্তব প্রতিক্রিয়ার উপর নির্ভর করবে।
এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রত্যেক প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলের জন্য নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ প্রচারের পরিবেশ নিশ্চিত করা।
ঘটনাটি নিয়ে তদন্তে কী উঠে আসে এবং দুই পক্ষের অভিযোগের পর পুলিশ কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
রিপোর্ট: সুখেন ঘোষ
আজকের রাজনীতি ডট ইন

