প্রতিবেদন: সুখেন ঘোষ, আজকের রাজনীতি ডেস্ক
২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | কলকাতা
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি চর্চিত খবর - তৃণমূলের সঙ্গে কি জোট বাঁধছে সিপিআইএম? সিপিআইএম-এর সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবির সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিঠি চালাচালি এবং ফোনে কথা হওয়ার খবর সামনে আসতেই এই জল্পনা ছড়ায়।
কিন্তু শনিবার সন্ধ্যায় সমস্ত জল্পনায় জল ঢেলে দিল আলিমুদ্দিন স্ট্রিট।
আসলে চিঠিটা কীসের?
সিপিআইএম সূত্রে জানা গেছে, এম এ বেবি একা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি দেননি। নির্বাচন কমিশন, SIR প্রক্রিয়া এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ২৮শে সেপ্টেম্বর থেকে ২রা অক্টোবর পর্যন্ত দেশজুড়ে বিজেপি-বিরোধী আন্দোলনের ডাক দিয়েছে বামপন্থী দলগুলি। সেই আন্দোলনে সব অ-বিজেপি দলকে সামিল করার জন্য INDIA জোটের সমস্ত শরিক-সহ বিরোধী দলগুলিকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় INDIA জোটের গুরুত্বপূর্ণ শরিক হওয়ায় তাঁকেও সেই চিঠি দেওয়া হয়েছে।
সূত্রের খবর, সেই চিঠির জবাব দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফোনে এম এ বেবিকে জানিয়েছেন, "আমরাও এই লড়াইয়ে আছি"। শ্রীরামপুরের সভা থেকেও মমতা বলেন, "রং নয়, বিজেপি বিরোধী শক্তিকে একজোট করাই এই মুহূর্তে লক্ষ্য।"
'কোনও প্রেমপত্র আদান-প্রদান হয়নি' - মহম্মদ সেলিম
এই বিষয়ে সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম সাফ জানিয়ে দেন, "কোনও প্রেমপত্র আদান-প্রদান হয়নি। সমস্ত দল যারা বিজেপির হাতে তামাক খায় না, তাদের চিঠি দেওয়া হয়েছে। তার মানে একসঙ্গে ভোট করা নয়।"
তিনি আরও বলেন, "এ রাজ্যে যখন কেউ বিজেপিকে চিনত না, তখন মমতার হাত ধরেই বিজেপি দু'জন সাংসদ পেয়েছিল।"
একই সুরে বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু বলেন, "বেবি সবাইকে চিঠি লিখেছেন। যেহেতু মমতা INDIA ব্লকের অংশ, তাই তাঁকেও লিখতে হয়েছে। দলের ভিতরে পুরো বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে।"
তাহলে বাংলায় সমীকরণ কী?
সিপিআইএম-এর অবস্থান স্পষ্ট - দিল্লিতে সংবিধান বাঁচাতে বিজেপির বিরুদ্ধে সব বিরোধী একসঙ্গে রাস্তায় নামবে, কিন্তু বাংলায় তৃণমূল এবং বিজেপি দুই শক্তির বিরুদ্ধেই লড়াই জারি থাকবে। কোনও নির্বাচনী জোট বা সমঝোতার প্রশ্নই নেই।
অর্থাৎ, তৃণমূল-বাম জোটের খবরটি পুরোপুরি গুজব।

